ঠিক আন্দাজে দুটো বেজে গেছে। ঠিক এমন সময় ঘুম টা ভঙে গেল জয়ের। সে এপাশ ওপাশ হয়ে শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলো কিন্তু তার ঘুম আর আসলো না। নানা রকম চিন্তা তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো। সে বার্থরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে। বার্থরুমে গিয়ে সে চোখে মুখে একটু জলের ঝাপটা দেয়। জলের ঝাপটা দেওয়া শেষ হলে সে বার্থরুম থেকে চলে আসে। এবং বার্থরুমের দরজাটা যখন সে বন্ধ করে তখন সে আবার জলের শব্দ পায়। সে ভাবে আমি তো কলের মুখটা বন্ধ করলাম তাহলে জল কিভাবে পড়ছে। সে আবার বার্থরুমে গিয়ে কলের মুখটা বন্ধ করে। সে এবার বার্থরুম থেকে বেরিয়ে বিছানায় বসতে যাবে এমন সময় তার ফোন টা বেজে উঠে । জয় দেখে একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন এসেছে,সে ফোন টা রিসিভ করে এবং বলে হ্যালো কে বলছেন?। অনেকক্ষণ যাবৎ কোনো উত্তর আসছে না দেখে জয় এই বার ফোনটা রাখতে যাবে তখনই ফোনের ওপারে একটা কর্কশ বিশ্রী হাসিতে ফোনের এপারে জয়ের সারা শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠল। সে বললো হ্যা .. হ্যালো কে বলছেন,?তখন ফোনের ওপার থেকে আবার একটা বিশ্রী হাসি দিয়ে বলে উঠলো, চিনতে পারছো না জয় এই কটা বছরে আমাকে ভুলে গেলে। জয় বলে কে...কে বলছেন আপনি। আপনার পরিচয় দিন কে আপনি বলুন। আমাকে চিনতে পারছো না জয় । এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলবে । কতকিছুর হিসাব এখনও বাকি আছে। জয়ের আস্তে আস্তে সব মনে পড়ে যে খারাপ অতীত কে সে এতো বছর ভুলে ছিল সেই সব কথা জয়ের মনে পড়ল। না .... এ হতে পারে না কে আপনি বলুন কে আপনি। ফোনের ওপার থেকে কন্ঠস্বর ভেসে আসে ভয় পাচ্ছো জয় আমাকে। এই বলে আবার ওই বিশ্রী হাসিতে ভরে উঠে। এবার জয় ভয়ে ফোন টা কেটে দেয়। এবং আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা জয়ের মনে পড়ে।
জয় একটা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে কলেজে যখন বানিজ্য বিভাগে লাস্ট ইয়ার তখন ওর কোয়েলের সাথে আলাপ হয়। কোয়েল তখন কলা বিভাগে ফাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা চলছে। এক দেখাতেই কোয়েলের জয় কে পছন্দ হয়ে যায়। কোয়েল ই জয় কে প্রথম প্রোপোজ করে। জয় কোয়েল কে বলে ঠিক আছে দেখছি। এই বলে দুদিন পর জয় কোয়েল কে বলে যে ঠিক আছে কিন্তু আগে যে যার ভবিষ্যৎ। তারপর এই সমস্ত কিছু। তারপর জয়ের কলেজ শেষ হলো। জয় ল নিয়ে পড়বে বলে বাইরে চলে যায়। তারপর আর তাদের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ হয় না। তারপর কোয়েল ও কলেজ শেষ করে আর পড়াশোনা করে না। হঠাৎ একদিন জয় দেশে ফিরে আসে। আর হঠাৎ করেই কোয়েল কে ফোন করে বলে দেখা করতে । কোয়েল খানিকটা অবাক হয়ে ভাবে যে কি হলো। তারপর সেও মনের আনন্দে দেখা করতে যায় একটা কফিহাউস এ। সেখানে জয় আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল কোয়েলের জন্য। কোয়েল কফিহাউস এ গিয়ে দেখে জয় আগে থেকেই তার জন্য অপেক্ষা করছে। জয় কে কোয়েল অনেকদিন পর দেখছে। কোয়েল যত জয় কে দেখছে ততো জয়ের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। খানিকক্ষণ সামনাসামনি দেখা হওয়ার পর দুজনেই চুপ করে ছিল, তারপর কোয়েল-ই কথা শুরু করে ,অনেক কথা হবার পর জয় জানাই সে চাকরি পেয়েছে। কোয়েল এই খবর টা পেয়ে আরও খুশি হয়ে যায় এবং বলে ই ফেলে তাহলে এই বার আমাদের বিয়ের কথা বাবাকে বলতে পারবো। জয় ও বলে হমম বলবে। আমি ও আমার পরিবারের সাথে কথা বলি। কোয়েল হলো বাবামার একটি মাত্র মেয়ে। কোয়েলের বাবা বিরাট মাপের ব্যবসায়ী। কোয়েল বাবা কে জানাই এবং জয়ের সাথে কথা বলায়। জয় ও কথা বলে কোয়েলের বাবার মনটা জয় করে এবং বিয়ের কথা সেরে ফেলে। তারপর জয় ও কোয়েলের বিয়েটা হয়। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে বলে কোয়েলের বাবা বেশ ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেয়। তারপর জয় ও কোয়েল হানিমুনের জন্য সুইজারল্যান্ড যাবে বলে ঠিক করে। কোয়েল বাবার কাছে আবদার করে। একটিমাত্র মেয়ে হলে যা হয়। বাবাও একসপ্তাহ ট্রিপের ,ফ্লাইট এর টিকিট কেটে দেয়। ওরাও মনের আনন্দে সুইজারল্যান্ড পৌঁছায়। বেশ ভালো ভাবেই তারা হানিমুন উপভোগ করে কোলকাতায় ফিরে আসে। কোলকাতা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যায় একটি দুর্ঘটনা গাড়ি টা চালিয়ে আসছিলো জয়। জয় একবার মাঝ রাস্তায় গাড়িটি থামিয়ে একটা দোকানে ঢোকে কটা জিনিস কিনতে। কোয়েল ও যাবে বলে কিন্তু জয় বলে তোমাকে আর যেতে হবে না । আর এই রোদ্দুর দেখতে পাচ্ছো তো। তুমি গাড়িতেই বসো। আমি-ই যাচ্ছি। এই বলে জয় দোকানে ঢোকে। সবকিছুই বেশ ঠিকঠাক-ই ছিল। হঠাৎ একটা বড়ো ট্রাক এসে গাড়িটাকে সোজোরে ধাক্কা মারে। সবাই কিছুক্ষণের মধ্যে দেখতে পেল জয়ের গাড়ি টা খেলনা গাড়ির মতো দুবার পালটি খেয়ে মাটিতে পড়লো। জয় কোয়েল বলে চিৎকার করে উঠে। কিন্তু সেই ডাক হয়তো কোয়েল এর কানে পৌঁছালো না। কোয়েল চিরতরে ঘুমিয়ে পড়লো।
তার পর জয় আর আগের মতো থাকতে পারে না। সে উকিলের চাকরি টা ছেড়ে দেয়। কোয়েলের বাবা মায়ের একটা ভরসাযোগ্য ছেলে হয়ে উঠে। কোয়েল এর বাবাও কোয়েল মারা যাবার পর সমস্ত কিছু ব্যবসার দায়িত্ব তার জামাই অর্থাৎ জয়ের হাতে তুলে দেয়। হঠাৎ একদিন কোয়েল এর মা সিঁড়ি থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যান।সঙ্গে সঙ্গে তাকে নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু তিন দিনের মাথায় কোয়েলের মাও মারা যায়। কোয়েলের বাবার এতকিছু সহ্য করার ক্ষমতা ছিল না সেই কেমন পাথরের মতো হয়ে গেলেন আর একদিন তিনি ও শ্বাস কষ্ট হয়ে মারা গেলেন। জয় এত কিছু দেখার পর আর এখানে থাকতে পারলো না। সে শুধু বাড়ি টা ছাড়া সমস্ত কিছু বিক্রি করে বাইরে চলে গেল। সেখানে গিয়ে সে আবার একটা বিয়ে করলো এবং জয়ের একটি ছোটো মেয়ে-ও আছে। এই রকম করেই আজ দশটা বছর কেটে গেছে। জয় আজ আবার একা কোলকাতায় এসেছে। এবং সে কোয়েলের বাড়িতেই উঠেছে। আজ রাত টা এমনিতেই ভালো ভাবে ঘুম আসছিলো না জয়ের। তারপর আবার এই ফোন। জয়ের ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে । ফোনে কোয়েলের গলা পেয়ে চোখের সামনে দশটা বছর আগের ঘটনা ভেসে উঠলো কিছুক্ষণের জন্য। সে খাটের মধ্যে স্থির হয়ে বসে রয়েছে। ভয়ে গলা শুকিয়ে এসেছে জয়ের।হঠাৎ সে দেখলো কে যেনো জলের গ্লাসটা কে এগিয়ে নিয়ে এসে বললো, বাবা অনেক্ষণ তো গলা শুকিয়ে বসে আছো,এই নাও জল খাও। এতো ভয়ের মধ্যে ও গলা টা যেনো জয়ের চেনা চেনা লাগলো।
এতো কিছুর মাঝে জয়ের সত্যি গলাটা চেনা লাগলো, সে মুখটা তুলে দেখলো। না কেউ নেই তো তাহলে।? এতক্ষণ তাহলে তার মনের ভুল। সে এবার লাইট টা অফ করে শুতে গেলো। ঠিক তখনই আরেক টা ঘটনা ঘটতে লাগলো। কোয়েলের একটা পছন্দের হিন্দি গান ছিল যেটা কোয়েল সবসময় শুনতো। কোয়েল মারা যাবার পর থেকে , জয় আর এইসব গান শুনতো না। হঠাৎ সেই গানের দুটি লাইন কে যেনো গুন গুন করে গাইছে। জয় দেখলো একটা মহিলা ছায়ামূর্তি সেই গুন গুন করে গান গায়ছে। জয় বললো কে? কে আপনি আর এতো রাতে আমার বাড়িতে ঢুকলেন ই বা কি করে। ঠিক তখনই মহিলাটি একরকম বিশ্রীভাবে হাসতে লাগলো। জয়ের সারা শরীরে আবার সেই ভয় জাগরণ হচ্ছে। মন বলছে এ কে এর এই হাসিই তো জয় কিছুক্ষণ আগে শুনে ছিল। জয় মনে মনে ভাবতে থাকে তবে কি কোয়েল বেঁচে আছে। না।।। কিন্তু এ কিভাবে সম্ভব।কোয়েল তো দশ বছর আগে মারা গেছে তবে। জয় দেখে ওই ছায়ামূর্তি তার দিকেই হাসতে হাসতে এগিয়ে আসছে। জয়ের ভয় টা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। সে দেখে ওই ছায়ামূর্তি তার হাতদুটো বাড়িয়ে দিয়েছে তার দিকে। ও ছায়ামূর্তি তা তাকে ডাকছে বলছে জয় ... জয় এই দিকে এসো ,জয় এসো, ভয় পেয়ো না জয়। এসো আমি তোমাকে নিতে এসেছি। এসো জয়...এসো। জয় এক পা করে পিছুতে থাকে আর সেই ছায়ামূর্তি তার দিকে এগিয়ে যায়। জয় বলে না ,আমি যাবো না কে আপনি আর আমি আপনার সাথে যাবোই বা কেনো।। ছায়ামূর্তিটি বলে চিনতে পারছো না জয় আমাকে। আমি যে তোমার কোয়েল। যাবে না জয় আমার সাথে,চলো না জয় চলো। জয় বলে না আমি যাবো না আর আপনি কোয়েল নোন। কোয়েল দশ বছর আগে মারা গেছে। হ্যাঁ আমিই সেই কোয়েল, তোমার কুমু, মনে পড়ছে জয় তুমি আমাকে ভালোবেসে এই নামটা বলে ডাকতে। জয় বলে উঠলো না কে আপনি ? ছায়ামূর্তিটি বললো জয় আমিই কোয়েল ,চলো জয়, চলো আমার সাথে, এই দশটা বছর আমি একা একা কাটিয়েছি , আমি আর তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছি না জয় চলো। তুমি এবার থেকে তোমার কুমুর কাছেই থাকবে। এসো জয়, এসো। তুমি যেমন আমিকে ওখানে পাঠিয়েছিলে ঠিক তেমনি ওইখানে যাবার জন্য ও তো আমি তোমাকে নিতে এসেছি। চলো জয় চলো। আর তোমার হাতে সময় নেই মৃত্যু তোমাকে ডাকছে জয় চলো। জয় চিৎকার করে উঠে না আমি যাবো না।।। আমি যাবো না তোমার সাথে। আমি বাঁচাতে চাই কোয়েল আমি মরতে চাই না। কোয়েল বলে উঠে বাঁচতে তো আমিও চেয়েছিলাম জয়। তোমাকে ভালোওবেসেছিলাম। একসাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ও দেখেছিলাম।তোমাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। তোমার থেকে শুধু একটু ভালোবাসা চেয়েছিলাম,যেটা প্রতিটি মেয়েই তার স্বামীর কাছে চায়।কিন্তু তুমি আমাকে ভালোবাসার পরিবর্তে কি দিলে জয়। বলো কি দিলে আমাকে। এই বলে কোয়েল আবার হেসে উঠলো, কি হলো জয় বলতে পারছো না। কি দিলে আমাকে?! দাঁড়াও আমি বলছি তুমি আমাকে দিয়েছো প্রতারণা, লাঞ্ছনা, আর দিয়েছো ,বলে আবার সে খিল খিল করে হেসে উঠলো। এবং বললো আমার জীবনে তোমার কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড়ো উপহার যা এই দশটা বছর তোমার আর আমার মাঝে কাঁটার মতো বিঁধে আছে। মনে পড়ছে জয় তুমি আমাকে কি উপহার দিয়েছো। বলো জয় বলো মনে পড়ছে সেই দিনের কথা।
আস্তে আস্তে মনে পড়ে সেই দিনের কথা। এর মাঝে কোয়েল আবার বলে উঠে,কি জয় মনে পড়ছে তো সেইদিনের কথা। কিভাবে তুমি আমাকে তোমার পথ থেকে সরিয়েছিলে। কেনো জয় বলো, তুমি কেনো আমার সাথে এইরকম করলে, সেদিন তোমার সমস্ত কিছুই প্ল্যান করা ছিল তাইনো। তুমি গাড়ি থেকে নাবার পর হঠাৎ করেই ট্রাক টাতো আসার কথা ছিল না। সবকিছুই ছিল তোমার সাজানো খেলা। আমিও তো বাঁচতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে বাঁচাতে দাওনি। আমার কথা বাদ দাও আমার বাবা, মা তারা কি করেছিল বলতে পারো। তাঁদের একমাত্র সন্তান কে তারা সদ্য হারিয়েছিল। আমি মারা যাবার পর ওই বৃদ্ধ মানুষ গুলো তোমাকে আমার জায়গা অর্থাৎ সন্তানের জায়গাটা দিয়েছিল। ওরা তোমাকে নিজের ছেলে হিসাবেই রেখে ছিল। তার বদলে ওরা তোমার কাছে কি প্রতিদান পেল। মৃত্যু। আচ্ছা জয় বলোতো ওরা কি এমন দোষ করেছিল। যার জন্য তুমি ওদের এইরকম ভাবে সারাজীবনের মতো শাস্তি দিলে। "ওদের কি মৃত্যু টা প্রাপ্য ছিল, আমারও কি মৃত্যু টা প্রাপ্য ছিল"। বলো জয় বলো চুপ করে থাকার দিন আজ নয়। ঠিকআছে,এবার চলো জয় ,তোমাকে তো আমি নিতে এসেছি, তুমিও তো যাবে আমার সাথে। না । না কোয়েল আমি যাবো না কোয়েল আমি বাঁচতে চায়! আমি বাঁচতে চাই। তা যে সম্ভব নয় জয়। তুমি বলোতো জয় আমার ওই বৃদ্ধ মা কে তুমি কতো নির্মমভাবে হত্যা করলে। মানুষ টা যে তোমাকে বড্ড ভালোবাসতো। তাকে কিনা সিঁড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলে। যদিও বা আমার জন্য মা বেঁচে গেল, তখন তুমি মাকে নার্সিংহোমে ভর্তি করলে। কিন্তু ডাক্তারের সাথে কথা বলে ডাক্তার কে টাকার লোভ দেখিয়ে মাকে মেরে দিলে। খবর কিছু পেয়েছিলে জয় ,সপ্তাহখানেক আগে ডক্টর রয়কে কে যেনো নৃশংস ভাবে খুন করেছে। ডাক্তার কে তো আমি নিয়ে চলে গেছি আমার কাছে। এবার তোমার পালা। আমার বাবা কেও তো রাখলে না জয় । আমি, মা চলে যাবার পর তুমিই ছিলে বাবার একমাত্র ভরসা, সেই বাবাকেও তুমি। মানুষ টা যখন নিশ্চিন্তে একটু ঘুমাচ্ছিল তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে মেরে দিলে। আর চারদিকে খবর দিলে বাবা নাকি হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা গেছে। বা! জয় বা! তুমি এতোটা পাশবিক, এতোটা নৃশংস। বলো জয় বলো তুমি তো পুরোটাই সম্পত্তির জন্য করেছো। আচ্ছা জয় একটা কথা বলোতো তুমি তো আমার স্বামী আমার সম্পত্তি সেটা তো পুরোটাই তোমার ছিল জয়। তাঁরজন্য আমাদের তিনটে প্রাণ তুমি এই ভাবে কেড়ে নিলে। এর শাস্তি তোমাকে পেতে হবে জয়। এর শাস্তি তোমাকে দেবো আমি। তোমার শাস্তি হবে মৃত্যু। কোয়েল আবার ওই বিশ্রীভাবে হাসতে থাকে।জয় এতোক্ষণ মুখ দিয়ে একটা কথাও বলেনি। এবার সে আবার বলতে থাকে আমার ভুল হয়ে গেছে কোয়েল আমাকে ক্ষমা করে দাও। কোয়েল বলে উঠে ক্ষমা কিসের ক্ষমা তুমি কি সেই ক্ষমা পাবার যোগ্য ,চলো জয় চলো এইবার। জয় পিছুতে থাকে আর কোয়েল এগিয়ে যাচ্ছে। জয় যত পেছনের দিকে পিছিয়ে যাচ্ছে কোয়েল ততো তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জয় খেয়াল ই করেনি যে এর পরেই খোলা বারান্দা, জয় পিছুতে থাকে আর বলতে থাকে ক্ষমা করে দাও, ক্ষমা করো আমাকে। ব্যাস আর এক পা পিছুঁলে
শেষ সব শেষ।হঠাৎ জয় দেখে কোয়েল এর সাথে আরোও দু জোড়া ছায়ামূর্তি তার দিকে এগিয়ে আসছে। তিনটে ছায়ামূর্তি এখন জয়ের পুরো সামনাসামনি। কোয়েল কেবল খিলখিল করে ওই রকম বিশ্রীভাবে হেসেই চলেছে। ওই দু জোড়া ছায়ামূর্তির দুটো দুটো চারটে হাত সজোরে ধাক্কা মারে জয় জয় নিজেকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করে কিন্তু সে পারে না। জয়ের কানে কেবল ভেসে আসে তিনজনের বিশ্রীভাবে হাসি। ব্যাস তারপর সব অন্ধকার।।।
পরদিন সকালে জয়ের ঘুম ভাঙে ,সে ভাবে তারমানে সে এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল। জয় বিছানা ছেড়ে উঠে। জয় দেখে তার বাড়ির সামনে অনেক লোক জড়ো হয়েছে। কিন্তু ব্যাপার টা কি সে বুঝতে পারে না। পুলিশ ও এসেছে। জয় বাড়ির বাইরে বেরোয় এবং আসেপাশের কয়েকজন কে জিজ্ঞেস করে যে দাদা কি হয়েছে, এখানে এত ভীড় কেনো। কিন্তু কেউ জয়ের কথার উত্তর দেয় না। জয় বারবার সবাই কে জিজ্ঞেস করে কিন্তু কেউ জয়ের সাথে কথা বলে না। সেইখানের কয়েকজন লোক নিজেদের মধ্যে বলতে লাগলোএই বাড়ির মালিক তো এইখানে থাকে না , সে তো বিদেশে থাকে। যে মারা গেছে সেই কি বাড়ির মালিক নাকি? আরেকজন বলে উঠে কি জানি পুলিশ তো তাই বলছে গো। আহা রে এই ভাবে মরে গেলো লোকটা। একটা তরতাজা প্রাণ এই ভাবে চলে গেল। জয় এতোক্ষণ ধরে সবার কথা গুলো শুনছিলো। জয় আগাগোড়া কিছুই বুঝতে পারছিলো না। জয় ভাবতে থাকে এই বাড়ির মালিক তো আমি, এই বাড়িতে কে আবার মারা গেল। জয় এইবার ভিড় ঠেলে কি হয়েছে সেটা দেখতে গেল। জয় দেখলো তারই মৃতদেহ তার সামনে পড়ে আছে। জয় চিৎকার করে বলতে থাকে। না ..... এ কে এ আমি নয়, আমি মরিনি। আমি বেঁচে আছি। অফিসার আমি বেঁচে আছি। দাদা শুনছেন আমি বেঁচে আছি, দাদা। জয় চিৎকার করতে থাকে। জয় দূর থেকে দেখে কোয়েল দাঁড়িয়ে আছে এবং ঠিক সেই রকম বিশ্রীভাবে হাসছে। কোয়েল জয় কে বললো জয় এই দশটা বছর প্রতিশোধের আগুনে আমি জ্বলছিলাম।তোমাকে বলে ছিলাম না জয়, আমি তোমাকে আমার কাছে নিয়ে যাবো, চলো জয় চলো এবার তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে। জয় চিৎকার করে বলে উঠে না।।।।।। এ হতে পারে না।।
Responses 0
Log in to leave a response.