ড্রিম ড্রাকুলার জীবন কাহিনী

তাবিয়া রহমান

পর্বঃ ০১

    আমরা তিন বান্ধবী তাবিয়া, রাবেয়া, সপ্না।  আমরা তিনজন মাঝেমধ্যে ভ্রমণ বা অ্যাডভেঞ্চার এ যেতাম। আমরা আগামীকাল একটি দ্বীপে যাব দীপটির নাম 'ড্রাকুলা'। লোকমুখে শুনেছি ওইখানে নাকি ড্রাকুলা আছে।  তাই আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে আছি ওখানে যাওয়ার জন্য।  তো আমরা সবকিছু রেডি করলাম ওখানে যাওয়ার জন্য। (আমরা তলোয়ার নিয়ে গিয়েছিলাম যদি সত্যি ড্রাকুলা থাকে আমরা তলোয়ার খুব ভালো চালাতে পারতাম)আমরা ওখানে পৌঁছে গেলাম। জায়গাটা খুব সুন্দর হলেও কেমন জানি একটু নিরব। সামনে অনেকটা খোলা মাঠ এরপরই গাছে গাছলা দিয়ে ভরা।

    ‎এখন দুপুর আমরা একটি বড় তাবু বানালাম। তখন দুপুর দুইটার মত বাজে। নিশ্চয়ই খিদে পাবে এ কারণে রাবেয়া এসেই রান্না করা শুরু করে দিয়েছে।  আমি একটু জায়গাটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। আমি রাবেয়াকে ডাকলাম আর বললাম,
    ‎তাবিয়া - রাবেয়া একটু শুনে যাও তো। স্বপ্নাকে  রান্না করতে বল। তুই আয় আমার সাথে।
    ‎রাবেয়া - ঠিক আছে আসছি দাঁড়া। স্বপ্না তুই একটু রান্না কর আমি একটু আসছি।
    ‎[ঠিক আছে বলে স্বপ্না রান্না করতে থাকলো আর আমি (তাবিয়া) আর রাবেয়া মিলে জঙ্গলের ভিতরে গেলাম।  আমি ওকে বললাম,
    ‎তাবিয়া - দেখ রাবেয়া ওখানে একটা রাজপ্রাসাদের মত বাড়ির মাথা দেখতে পাচ্ছিস?
    ‎রাবেয়া - হ্যাঁ তাইতো এখান কি কেউ থাকে নাকি!
    ‎তাবিয়া - আচ্ছা এখানে কি সত্যিই ড্রাকুলা আছে?
    ‎রাবেয়া - দূর দূর ওসব মানুষের মুখের কথা ওগুলো বিশ্বাস করিস তুই?
    ‎তাবিয়া - চল আমরা এখন চলে যাই বিকাল হয়ে যাচ্ছে।
    ‎আমরা চলে আসলাম। রাত হয়ে গেছে খেয়ে দেয়ে আমরা তাঁবুর ভেতর বসে আছি। হঠাৎ আচমকা একটা বিকট আওয়াজ আসলো আমরা চমকে উঠলাম। আমি (তাবিয়া), রাবেয়া, সপ্না বেরিয়ে এসে দেখলাম রাজপ্রাসাদের মাথাটার ওপরে কি যেন একটা উড়ছে। আর ওটা থেকেই এমন অদ্ভুত আওয়াজ আসছে।
    ‎রাবেয়া - ওটাতো ড্রাকুলাই।  এখানে তাহলে সত্যি ড্রাকুলা থাকে। এখন কি করবো আমরা!
    ‎তাবিয়া - ভয় পাস না ভয় পেলে চলবে না কাল সকালে ওখানে যেতে হবে। দেখতে হবে ওটার ভিতর কি আছে।
    ‎সপ্না - না ভাই আমি এখানেই ঠিক আছি। আমি কোথাও যাবো না। শুধু শুধু মরতে যাব কেন ওখানে।
    ‎তাবিয়া - ঢং করিস না এত ভয় কিসের তোর।
    ‎এখন ঘুমিয়ে পড় কাল সকালে উঠতে হবে।
    ‎সকাল হয়ে গেল তাবিয়াকে রাবেয়া জাগিয়ে তুলল আর বলল, তাবিয়া তাড়াতাড়ি উঠ রাজপ্রাসাদে?
    ‎তাবিয়া - রাজপ্রাসাদ হ্যাঁ যাবো তো চল।( ঘুমের চোখে) শম্পা না মানে স্বপ্না কোথায়?
    ‎রাবেয়া হাসতে হাসতে বলল ও বাইরে তুই নাস্তা করে নে।
    ‎আমরা নাস্তা করলাম এরপর আমাদের তিনজনের হাতে একটা একটা করে তলোয়ার এবং কাঁধে তীর ও ধনুক নিলাম। তো আমরা হাঁটতে লাগলাম আমরা রাজপ্রাসাদের কাছে পৌঁছে গেছি। ওখানে একটা সাইনবোর্ড ছিল যার ওপর লিখা ছিল -{don't go in it }
    ‎তাবিয়া - এটার ভেতর যেতে মানা করেছে কেন?
    ‎রাবেয়া - সে কারণেই তো যাবো দেখব কি আছে এটার ভিতর।
    ‎সপ্না - ড্রাকুলা যদি আমাকে খেয়ে ফেলে?
    ‎রাবেয়া : হ্যাঁ ড্রাগুলা তো তোকে একলাই খাবে আমাদের তো ছেড়ে দেবে।  তুই বোধ হয় কালকে ড্রাকুলা কে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখিয়েছিস হাহাহা।
    ‎তাবিয়া : ভেতরে চল।
    ‎আমরা ভিতরে গেলাম। আমরা দেখলাম ভিতরে ভাঙ্গা চোরা কিন্তু কোনো ড্রাকুলা নেই। তাহলে কালকে কি দেখলাম আমরা! হটাৎ পিছনের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলো। আমরা চমকে উঠলাম।
    ‎সপনাঃ কে, কে ওখানে?
    ‎তাবিয়াঃ কোথায় কে? আমিতো কাউকেই দেখতে পারছি না। 
    ‎সপ্নাঃ বইয়ের সেল্ফ এর পিছনে একটা মানুষের ছায়া দেখলাম। ওটা কি ড্রাকুলার ছায়া?
    ‎রাবেয়াঃ  দূর বোকা, ড্রাকুলার আবার ছায়া দেখা যায় নাকি! আমার তো মনে হয় সত্যিই কোনো মানুষ আছে এখানে!
    ‎তাবিয়াঃ টেবিলের ওপর ওটা কি? 
    ‎রাবেয়াঃ ওটা তো একটা খাচা আর খাচার ভিতর একটা বাটি আর বাটির ভেতর তো,,,,রক্ত😮
    ‎সপ্নাঃ হ্যা ওটা তো রক্ত ই মনে হচ্ছে।
    ‎হটাৎ পিছনে থেকে আওয়াজ আসলো তোমরা এখানে কি করছো?
    ‎রাবেয়াঃ কে তুমি,  সামনে আসো।
    ‎সপ্নাঃ দূর বাবা নিজের বিপদ নিজেই ডাকে। আমি আর কি করবো আমিও ডাকি।
    ‎হ্যা কে তুমি আসো আমাদের সামনে।
    ‎( বাববাহ! এতো সাহস তোমাদের।  তোমরা কি জানো না এটা ড্রাকুলা দ্বীপ।)
    ‎রাবেয়াঃ এটা আমরা তোর থেকে ভালো জানি, এবার তুই সামনে আয় তো।  এতো নাটক তো ভালো লাগে না।আমার তো মনে হচ্ছে তুই নিজেই ভয় পাচ্ছিস।
    ‎হটাৎ করে উপ্র থেকে একটা কঙ্কাল এর মাথা পড়লো। আমরা তিনজন তোলোয়ার নিয়ে রেডি হলাম আর এমন সময় একটা খাচা এসে উপর থেকে আমাদের আটকে ফেললো। আর সামনে দেখলাম একটা ড্রাকুলা,, লাল তার চোখ, দুপাশে দাত বড়,  আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। সে বললো আমি "ড্রিম ড্রাকুলা। "

    ‎রাবেয়াঃ ড্রিম ড্রাকুলা এটা আবার মানুষের নাম হয় নাকি?
    ‎ড্রিম ড্রাকুলাঃ আমি তো মানুষ নই এখন আমি এখন ড্রাকুলা।
    ‎তাবিয়াঃ তুমি এখন মানুষ নও! মানে তুমি কি আগে মানুষ ছিলে নাকি?
    ‎ড্রিম ড্রাকুলাঃ হ্যা আমাকে এ দ্বীপে আটকে রাখা হয়েছে।
    ‎রাবেয়াঃ আটকে রাখা হয়েছে মানে? তুমি তো মুক্ত।
    ‎ড্রিম ড্রাকুলাঃ না আমি মুক্ত নই। একটা history  আছে শুনবে তোমরা?
    ‎আমরা তিনজন ই বলে উঠলাম হ্যা,,,
    ‎ড্রিম ড্রাকুলা বলতে শুরু করলো- অনেক বছর আগের কথা আমি গুড ড্রিমল্যান্ড নামে একটি দেশে জন্মগ্রহণ করেছি আমি ছিলাম ড্রিম মাইন্ড এবং ড্রিম মেন্ট এর একমাত্র সন্তান ড্রিম ড্রাগ।
    ‎সবাই আমাকে খুব ভালবাসত আমি খুব খুশি ছিলাম আমার রাজ্যে আমার মা বাবা আর রাজ্যের প্রজাদের সঙ্গে।  কিন্তু হঠাৎ আমার এই সুখী জীবনে কালো ছায়া এর  নজর লাগলো।  পাশের দ্বীপটির নাম ছিল ব্যাট ড্রিম ল্যান্ড সেখানে থাকতো এক ডাইনি ড্রাকুলা। তার একটি মেয়ে ছিল যার নাম ব্যাড ড্রিম।  সে নাকি আমাকে খুব পছন্দ করত।  কিন্তু সে ছিল তার মায়েরই মতো কুৎসিত ও অহংকারী ধরনের ড্রাকুল।  তার মায়ের নাম ব্যাড ড্রিম ব্রেডি। একদিন ঘটলো কি ব্যাড ড্রিমব্রিডি আমাদের শহরে এলো।
    ‎ব্যাড ড্রিম ব্রেডিঃ ড্রিম মাইন্ড আপনার ছেলের সাথে কি আমার মেয়ের বিয়ে দেয়া যায় না? আমার মেয়ে যে আপনার ছেলেকে খুব পছন্দ করে।
    ‎ড্রিম মাইন্ডঃ না কিছুতেই না আপনার ও মন কুৎসিত অহংকারী ড্রাকুলা মেয়ের সাথে আমার ছেলের কখনোই বিয়ে হতে পারে না।
    ‎ব্যাড ড্রিম ব্রেডি অনেক অনুরোধ করলো কিন্তু আমার বাবা-মা মেনে নিল না।  এর কারণে একদিন রাতে আমাকে তুলে নেওয়া হল। ব্যাড ড্রিম ল্যান্ডে আমাকে দু বছর পর্যন্ত আটকে রাখা হয় তারপর এরা  গুড ড্রিমল্যান্ড আক্রমণ করে।  এবং সে জায়গা কেড়ে নেয় আমাকে তার মেয়েকে বিয়ে করতে বলে যদি না করি তাহলে আমার বাবা মাকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।  কিন্তু আমি তার মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হইনি।  সে আমাকে একটি ড্রাকুলার রক্ত শরবতের সাথে মিশিয়ে আমাকে জোর করে তিন দিন পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় ছিলাম এরপর উঠে দেখলাম আমার কেমন যেন একটা  অদ্ভুত লাগছে। আমি আয়নার সামনে দাঁড়াতেই দেখি আমি ওদের মতো কুৎসিত ড্রাকুলা হয়ে গিয়েছি। হঠাৎ পিছনে ড্রিম ব্রেডি  এসে বলল তুই এই দ্বীপ  থেকে বেরোতে পারবি না ততদিন তুই এভাবেই থাকবি। আমি জানি এই দ্বীপে কখনো মানুষ আসবে না তাই আমি তোর মানুষ হওয়ার উপায় রেখে যাচ্ছি।  ওই টেবিলের ওপর ওই খাঁচার ভিতর যে রক্ত আছে সেই খাঁচা শুধু কোন মানুষই সরাতে পারবে ওই রক্ত খাওয়ার পর তুই আবার মানুষ হয়ে যাবে। আর ওই রক্ত খেলে তুই মানুষ হওয়ার সাথে সাথে আমারও মৃত্যু হবে তবে  আমি জানি তুই কখনো সেটা হতে পারবি না হাহাহা।  ও হেসে কোথাও একটি চলে গেল আর কখনো এলোনা। আর এটিই হচ্ছে আমার ড্রাকুলা  হওয়ার কাহিনী।
    ‎তাবিয়াঃ আচ্ছা এই তাহলে আসল কাহিনী মানে এটাই good dreamland শহর.।
    ‎ড্রিম ড্রাকুলাঃ হ্যাঁ তোমরা নিশ্চয়ই ওই রক্তের বাটিটা দেখেছো ওটা একমাত্র মানুষের সরানো সম্ভব। 
    ‎রাবেয়াঃ চল আমরা ওটাকে সরিয়ে দেই
    ‎আমরা ওটাকে সরিয়ে দিলাম আর ড্রিম ড্রাকুলা ওটা পান করে ড্রিম ড্রাকুলা থেকে ড্রিম ড্রাগ হয়ে গেল আর বলল,
    ‎ড্রিম ড্রাগঃ তোমাদের অনেক ধন্যবাদ কিন্তু আমি কি তোমাদের সাথে তোমাদের দেশে যেতে পারি। 
    ‎রাবেয়াঃ অবশ্যই যেতে পারো আমরা তোমাকে এই যাব চলো আমাদের সাথে।
    ‎হঠাৎ কোথা থেকে ডাইনিটা উপর থেকে মরে  পরল আমরা বললাম এটা কে?
    ‎ড্রিম ড্রাগঃ এটাই সেই ডাইনি যে আমাকে এখানে আটকে রেখে গেছে।
    ‎আমরা ড্রিম ড্রাগ কে নিয়ে আমাদের দেশে ফিরে আসলাম কিন্তু এখানে নয় ইংল্যান্ডে চলে গেল এবং একটি নতুন জীবন শুরু করলো আর আমরা তিনজন মানে রাবেয়া তাবিয়া  আর সপ্না এই কাহিনীটা কে ডাইরিতে বন্দী করলাম।

    ‎এই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব পড়তে আমার আইডি টাকে ফলো করে রাখুন। ধন্যবাদ

    Author
    Tabia Rahman
    12K Followers

    ✒️ Crafting stories from silence 🌙 Poet at heart, storyteller by soul 📖 Every line holds a piece of emotion

    Responses 2

    Log in to leave a response.

    Abir Husain 1 month ago

    Waiting For Next Part.

    Electro Thor 1 month ago

    কিছু যায়গা কিছু লিখা বাদ পরে গেছে, একবার পরে ঠিক করে নিতে পারস। আর গল্পটা সুন্দর কিন্তু কিছুটা ছোটদের মতো বলার ধরন, এইটা একটু আপডেট করতে পারস, যাতে রুপকথার গল্পের স্টাইল হয়।

    Tabia Rahman 1 month ago

    Accha update kore dibo in sa Allah

    Link copied!