তাবিয়া রহমান
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে বড্ড কষ্ট হয়। তার মধ্যে আবার শীতকাল, আবার বাইরে নামছে বৃষ্টি, এরকম শীতল আবহাওয়া এরমধ্যে কেউ জানালাও খুলে নাই। ইচ্ছে করছে না উঠতে। পাশে মোবাইলটা রাখাই ছিল। একবারও ইচ্ছে হলো না কয়টা বাজে তা দেখতে। উফ কম্বল মুড়ি দিয়ে কোলবালিশ ধরে অন্ধকার রুমে শুয়ে থাকা অন্যরকম এক অনুভূতি।
অনুভূতি হঠাৎ ভেঙে গেল। কানে বাজতে লাগলো আম্মুর বকা।।
আম্মু- এই সকাল 9 টা অবধি কোন বাড়ির মেয়ে ঘুমায় শুনি। এমন আলসামি করলে কি করবি জীবনে।
-ধুর! গোমরা মুখে ঘুম ঘুম চোখে নিয়েই উঠলাম। ফ্রেশ হলাম ফ্রেস হয়ে আম্মুকে বললাম -" আম্মু খাইতে দাও "।
আম্মু -" নিজে নিয়ে খাইতে পারিস না। আমাদের খেয়ে হজম হয়ে গেল এখন আসছে আলসামি বাদ দিয়ে নিজে বেরে খা। "
-আমি মনে মনে ভাবতেছি এত কিছু বলার কি হইল বললেই তো হইতো" তুই নিয়ে খা "।
যাইহোক, নিজে বেরে খেলাম। টিভিতে কার্টুন দেখে খাইতে একটু দেরি হল তাই।
আম্মু -" আমি কত কাজ করে ফেললাম আর তোর এখনো খাওয়া হয় নাই তোর কি গিলতেও আলসামি লাগে? "
-কি আর বলবো যেদিন কোচিং না থাকে সেদিন আম্মুর বকা খাইতে খাইতে আমার বেলা শেষ হয়। আমি বুঝিনা আম্মু যা নিয়েই বকুক না কেন তার সব কথার মধ্যে আলসেমি শব্দ টা থাকবেই। হিমমম! তাহলে কি আমি সত্যি অলস? জানার জন্য গুগলে সার্চ দিলাম "অলসতা দূর করার উপায় কি? গুগলের স্ক্রিনে তো অনেক কিছুই এলো স্ক্রল করতে করতে একটা ছবি দেখলাম। জন্ম যে মাসে হইছে সে মাস অনুযায়ী তুমি কি বা কেমন। জানুয়ারি = রাগী দেয়া( এইজন্যই মনে হয় আম্মু রাগী এত), মার্চ = স্মার্ট ( ধুর মার্চে কি আছে আমি আমারটা দেখি ওমা ডিসেম্বর =অলস লেখা এটা কেমনে সম্ভব। আচ্ছা আমি কি ইচ্ছা করে জন্ম নিয়েছি বলেন তো। এখন ডিসেম্বরের মানুষ অলস হলে আমার কি দোষ।
- যাইহোক, একদিন বাসায় আম্মু আব্বু কেউই ছিল না। আমি একা বাসায় ছিলাম। তারা নাকি কালকে বিকালে আসবে। তো বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন চাপছি, তো এমন সময় আম্মুর কল আসলো,,,,
-হ্যালো আম্মু,
আম্মু - হ্যাঁ শোন আমরা কালকে বিকালে বা সকালে চলে আসব তুই খাবার খেয়ে নিস। আর শুধু ফোন টিপিস না। একটু পড়তেও বসিস আর তাড়াতাড়ি ঘুমাই যাইস।
-আচ্ছা আম্মু।
-ফোন রাখার সাথে সাথে, উফফ! কি মজা আজকে অনেক রাত অব্দি ফোন টিপতে পারবো টিভি ও দেখতে পারব। টিভিতে গান ছেড়ে শুনতেছি আর ফেসবুক স্ক্রলিং করতে ছিলাম। তারপর গান শুনতেও বোরিং লাগতেছিল তাই টিভি অফ করে কম্বলের নিচে শুয়ে শুয়ে মোবাইলে রিলস দেখতে ছিলাম। কি শান্তি! বাসায় আমার একার রাজত্ব যা মন চায় তাই করতে পারব এত ঠান্ডা এর ভিতর ডিমলাইট জ্বালিয়ে কম্বলের নিচে শুয়ে শুয়ে ফোন টিপার মজাই আলাদা।
কিছুক্ষণ যাওয়ার পর হঠাৎ দরজায় টংটং আওয়াজ। উফ! খুব বিরক্তি নিয়েই বললাম এখন আবার কে এলো। । চিন্তা করলাম পাশের বাড়ির ভাবি নাকি। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কম্বল সরিয়ে উঠে বসলাম। কান থেকে ইয়ারফোন খুলে ফোনের দিকে তাকাতেই দেখি সাড়ে বারোটা বাজে। আবার দরজায় টংটং আওয়াজ। আমি মনে মনে ভাবতেছি আশেপাশের মানুষরাতো আটটা সাড়ে আটটায় ঘুমায় যায়। এই গ্রামে আমরাই শুধু একটু বেশি রাত জাগি।
আলসেমির জ্বালায় আর উঠে দরজার সামনে যেতে ইচ্ছা হলো না। বিছানায় বসে জিজ্ঞেস করলাম" কে??? "
-বাইরে থেকে কোন আওয়াজ এলোনা প্রথমে। শুধু টং টং আওয়াজ টা একটু বেড়ে গেল।
-আমি রাগ হয়ে বললাম" কে রে? "
-বাইরে থেকে এক লোক বলে উঠলো দরজাটা খুলো তোমার আব্বুর কাছে পানি পড়া নিতে আসছি।
আমি - কালকে আইসেন এখন সবাই ঘুমায় রইছে।
[মা যা শিখাইছিল তা মনে আছে। মা বলেছিল "রাতে কেউ দরজা ধাক্কা দিলে কখনোই দরজা খুলবি না এইজন্য আমিও খুললাম না]
-লোকটি আবার বলল, "অনেক দরকার মা দরজাটা খুলো।
-আমি বললাম "না, কালকে সকালে আইসেন এক রাতের জন্য তো কেউ পানি পড়া না খাইলে মরে যাবে না, আপনি জান তো "।
-তারপর আর কোন শব্দ পেলাম না তাই আমিও ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ফোনের ভাইব্রেশন নে ঘুম ভেঙে গেল দেখলাম আম্মু অনেকগুলো কল দিয়েছে পরে ঘুম থেকে উঠে কল ব্যাক করলাম।
-হ্যালো আম্মু,
আম্মু -"হ্যাঁ, এই কালকে কি হইছে কিছু জানোস তুই।?
-না কি হইছে?
আম্মু - কালকে কিছু লোক ছদ্মবেশে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিথ্যে কথা বলে মানুষের ঘরে ঢুকে ডাকাতি করছে দুইজনকে খুন ও করছে টিভিতে দেখাইতে ছিল। এইজন্যই বলছি তোরে কেউ রাতে দরজা ধাক্কা দিলে না খুলতে।
-আম্মু কালকে তারা মনে হয় আমাদের বাসায়ও আসছিল রাত সাড়ে বারোটায়। আব্বুর কাছে পানি পড়া নিতে।
আম্মু - আল্লাহ! তারপর তুই কি করছিস?
-আমি আর কি করমু আলসেমির জন্য বিছানা থেকেই উঠি নাই।
আম্মু - ও ও আলসেমির জন্যই বাইচ্চা গেছস যাক সাবধানে থাক আমরা বিকেলের মধ্যেই আসতেছি।
-আমি ফোন রাখার পর চিন্তা করতেছি আজকে আমি আমার আলসেমির জন্য বেঁচে গেলাম। তাইলে আম্মু আমারে বকে কেন শুধু শুধু। আসলে আমার মনে হয় লাইফে একটু হলেও আলসেমি থাকার দরকার আছে। কি আপনাদেরও কি তাই মনে হয়?
Responses 1
Log in to leave a response.
আইলসামি দিয়ে যদি দারুণ কিছু হয়, তাহলে আইলসামি ভালো, রেইন, কঠিন দাগ দূর করে। দাগ ভালো, না মানে আইলসামি ভালো।